প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান মানুষের জীবন রক্ষায় কাজে লাগান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক

খাগড়াছড়ি অন্যান্য খাগড়াছড়ি সদর 🎓 শিক্ষা

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক : গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে দুর্গম এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক।

তিনি বলেন, “আপনাদের একজনের মাধ্যমে যদি কোনো অসুস্থ মা কিংবা শিশুর সময়মতো সেবা নিশ্চিত হয়, যদি একটি জীবনও রক্ষা পায়, তাহলেই এই উদ্যোগ সার্থক হবে।”

১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার  সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ি জোন সদরে সেনা রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে ৫ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স আয়োজিত দুই সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক বলেন, পার্বত্য জেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রশিক্ষণার্থীরা দুই সপ্তাহের এ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছেন। সংকটময় মুহূর্তে এই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তারা নিজ নিজ এলাকার মানুষের প্রাথমিক সহায়তা নিশ্চিত করতে পারবেন।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে পাওয়া সনদ শুধু অর্জনের স্বীকৃতি নয়, এর সঙ্গে মানুষের সেবা ও কল্যাণের দায়িত্বও রয়েছে। দুর্গম এলাকায় কোনো প্রসূতি মা বা অসুস্থ শিশু তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সঠিক সিদ্ধান্ত ও প্রাথমিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রশিক্ষণার্থীদের প্রত্যেককে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয় উপকরণসহ একটি করে কিট ব্যাগ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে রিজিয়ন কমান্ডার এগুলো যথাযথভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা ধরে রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, চিকিৎসা ও নার্সিংসেবায় শুধু প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেই হবে না, অর্জিত জ্ঞান নিয়মিত চর্চা ও বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে কাজে লাগাতে হবে। জনস্বার্থে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাই এ প্রশিক্ষণের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

প্রশিক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রশিক্ষকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্সসেবা, সদর হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক ও প্রশিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতা দিয়েছেন। বাস্তব জীবনে কোনো রোগী, মা বা শিশুর সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে পারলেই এই প্রশিক্ষণের প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে।

ভবিষ্যতেও দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জেলা সিভিল সার্জন ডা. রতন খীসা, খাগড়াছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা প্রশিক্ষণার্থীরা গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করেন। সনদ ও প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম হাতে নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় মানুষের সেবায় অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *