জসীম উদ্দিন জয়নাল : খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক দুই সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদপত্র ও প্রাথমিক চিকিৎসা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
১৩ আগস্ট ২০২৬ বৃহস্পতিবার দুপুরে মাটিরাঙ্গা উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গুইমারা রিজিয়নের ১৮ ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্ট মাটিরাঙ্গা জোনের আর্থিক ও সার্বিক সহযোগিতায় এবং উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কারিগরি সহায়তায় প্রশিক্ষণটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ১৭ জন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সনদপত্র ও প্রাথমিক চিকিৎসা উপকরণ তুলে দেন মাটিরাঙ্গা জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মাসুদ খাঁন পিএসসি।
এ সময় মাটিরাঙ্গা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর আলতাফ মাহমুদ রুবেল পিএসসি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু, জোনের মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন ডা. রেজওয়ান তৌফিক ই রিজভী, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও স্বাস্থ্য বিভাগের আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলাম সুমন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন দত্ত, মাটিরাঙ্গা থানার ওসি মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিন, চিকিৎসক ডা. ফারিয়া আহমেদসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশিক্ষণার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গর্ভকালীন পরিচর্যা, প্রসবকালীন জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয়, নবজাতকের যত্ন, শিশুর প্রাথমিক চিকিৎসা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার বিষয়ে তারা বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করেছেন। অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ এলাকার মানুষের সেবায় কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, গর্ভবতী মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা শুধু পরিবারের নয়, পুরো সমাজের দায়িত্ব। দুর্গম এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রশিক্ষণার্থীরা অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগালে স্থানীয়ভাবে অনেক মানুষ উপকৃত হবে।
তিনি মাটিরাঙ্গা জোনের এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাটিরাঙ্গা জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মাসুদ খাঁন পিএসসি বলেন, দুর্গম এলাকার মানুষ যাতে জরুরি সময়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সহায়তা পান, সে লক্ষ্যেই এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু সনদ গ্রহণ করলেই হবে না; প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। প্রশিক্ষণার্থীরা যেন নিজেদের পরিবার ও আশপাশের মানুষের প্রয়োজনে প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দিতে পারেন, সেটিই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় জনগণের কল্যাণে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানের শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র ও প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।
