গুইমারায় সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সেনাবাহিনী  

🏛️ রাজনীতি খাগড়াছড়ি গুইমারা

প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির গুইমারায় গত বছরের সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে সহায়তা সামগ্রী বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ প্রদান, সোলার ল্যাম্প পোস্ট স্থাপন, চিকিৎসাসেবা ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার  সকালে গুইমারা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ আর্টিলারি ব্রিগেড ও গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে এসব কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া।

অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের দোকানঘর নির্মাণে সহায়তা, চলাচলে সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের হুইলচেয়ার, স্থানীয় এলাকায় আলোকসুবিধার জন্য সোলার ল্যাম্প পোস্ট এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, পাহাড়ের সব জনগোষ্ঠীকে উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধার মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়নের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত, সিন্দুকছড়ি জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী নেহাত ফয়সল, লক্ষ্মীছড়ি জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খান সজিবুল ইসলাম, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খানসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গুইমারার রামসু বাজার এলাকায় সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় হতাহতের পাশাপাশি কয়েকটি দোকান ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এক বছর পর আয়োজিত এবারের কর্মসূচিতে ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি জীবিকা, শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব সহায়তা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে সহায়ক হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *