
প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী “খাল পুনঃখনন কর্মসূচি-২০২৬” এর আওতায় খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তৈইমাতাই ও পিলাক খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
২০ মে বুধবার দুপুর ৩টায় উপজেলার বাইল্যাছড়ি জোড়াব্রিজ এলাকার তৈইমাতাই খাল এবং পরে জালিয়াপাড়া এলাকার পিলাক খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। পরে জালিয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিসকাতুন তামান্নার সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আফছার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু, গুইমারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব আলী ডালিমসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, যা একসময় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই জনবান্ধব উদ্যোগকে আধুনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হবে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সংরক্ষিত থাকবে এবং মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে স্থানীয় মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ঘটার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। খাল সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর পরিচালিত অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় মোট ৯ দশমিক ১ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
এর মধ্যে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পিলাক খাল পুনঃখননে ব্যয় হবে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং এতে কাজ করছেন ৪১৬ জন শ্রমিক। অন্যদিকে ৪ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ তৈইমাতাই খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, যেখানে নিয়োজিত রয়েছেন ৩৫৭ জন শ্রমিক। প্রতিটি শ্রমিক দৈনিক ৫০০ টাকা করে মজুরি পাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হতো না। এতে জলাবদ্ধতায় ফসলি জমি, বসতঘর ও গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতো। আবার শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটের কারণে কৃষকরা পর্যাপ্ত আবাদ করতে পারতেন না। খাল পুনঃখননের এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গুইমারায় কৃষি উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :