খাগড়াছড়িতে সীরাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ


hello.ahmedpolash প্রকাশের সময় : মে ৬, ২০২৬, ৩:৫৫ পূর্বাহ্ন /
খাগড়াছড়িতে সীরাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ

প্রতিনিধি : সারাদেশের মতো খাগড়াছড়িতেও পবিত্র সীরাতুন্নবী (সা.)-এর আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে জেলা পর্যায়ের সীরাত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়, যা পুরো আয়োজনকে আধ্যাত্মিক আবহে রাঙিয়ে তোলে।
প্রতিযোগিতা শেষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো. আনোয়ার কবিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সীরাত প্রতিযোগিতা শুধু প্রতিযোগিতা নয়, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাঁর আদর্শে উদ্বুদ্ধ তরুণ প্রজন্ম একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে মো. আনোয়ার কবির বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন শিশু-কিশোরদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীরাত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি চরিত্র গঠনের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিযোগিতায় জেলার ৯টি উপজেলা থেকে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার মোট ৭৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। কনিষ্ঠ, মাধ্যমিক ও উচ্চ—এই তিনটি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মোট ৯ জন বিজয়ীর হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাসের ছাপ। তারা মহানবী (সা.)-এর জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে হৃদয়গ্রাহী উপস্থাপনার মাধ্যমে বিচারকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হামিদসহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিচারকমণ্ডলী।
আয়োজকরা জানান, জেলা পর্যায়ে বিজয়ীরা আগামী ১৯ মে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
পুরো আয়োজনটি শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও আদর্শিক শিক্ষার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।