মো. সোহেল রানা: খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় টানা তিন ঘণ্টার ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। ২৪ আগস্ট সোমবার এ ঘটনায় জামতলীসহ কয়েকটি এলাকায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে। পানির তোড়ে অনেক ঘরের আসবাবপত্র, রান্নার সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ২১ আগস্ট শুক্রবার মধ্যরাতের দিকে প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার জামতলী, সুধীর মেম্বারপাড়া, মায়াপাড়া, জামতলী বাঙালি পাড়ার নিচু এলাকা ও জামতলী বাজারসংলগ্ন এলাকায় দ্রুত পানি বাড়তে থাকে। এতে বেশ কয়েকটি মাটির ঘর ও গুদামঘর ভেঙে পড়ে।
ক্ষতিগ্রস্ত সানজিদা আক্তার ও আয়েশা আক্তার বলেন, হঠাৎ ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি তারা। পানিতে আসবাবপত্র, রান্নার সামগ্রী, কাপড়চোপড়সহ মূল্যবান জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।
জামতলী এলাকার আমেনা বেগম বলেন, রাতের বৃষ্টিতে তার ঘরের সবকিছু পানিতে ভেসে গেছে। এমনকি রান্নার প্রয়োজনীয় সামগ্রীও আর অবশিষ্ট নেই। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সম্পদও পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ফাতেমা আক্তার বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন ঘরের ভেতর পানি। এরই মধ্যে বাড়ির একটি অংশ ভেঙে পড়েছে। সন্তানদের নিয়ে তিনি চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাতেন বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে নিচু এলাকায় পানি বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার বর্তমানে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে সহযোগিতা চান।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
