প্রতিনিধি : সমাজ থেকে যৌতুক ও মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতে হলে পরিবর্তনের সূচনা নিজের পরিবার থেকেই করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।
২ আগস্ট শনিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহরে এলজিইডি ভবনের মিলনায়তনে আঞ্জুমানে রজরিয়া ট্রাস্ট আয়োজিত ‘যৌতুক ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজ পরিবর্তনের জন্য সবার আগে ব্যক্তিগত মানসিকতা ও চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনতে হবে। অন্যের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক পরিবারকে যৌতুক ও মাদকের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। তাহলেই একটি সুস্থ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বিয়ের সময় যৌতুকের দাবি কিংবা অপ্রয়োজনীয় সামাজিক চাপের কারণে অনেক পরিবার ভোগান্তির শিকার হয়। এর ফলে বহু নারী নির্যাতনের ঘটনাও ঘটে। নিজের মেয়ের প্রতি যে সম্মান ও ভালোবাসা দেখানো হয়, একই আচরণ পুত্রবধূর প্রতিও নিশ্চিত করা গেলে যৌতুকজনিত নির্যাতন অনেকাংশে কমে আসবে। অন্যকে উপদেশ দেওয়ার আগে সেই মূল্যবোধ নিজ পরিবারে বাস্তবায়ন করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মাদক প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, মাদক যুবসমাজ ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। কোনো ব্যক্তি, এমনকি নিজের সন্তানও যদি মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তবে তাকে আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতা করা উচিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জনসচেতনতা বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন, বেতার এবং পথনাটকের মতো বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি আলেম-ওলামাদের ওয়াজ মাহফিল ও জুমার খুতবায় যৌতুক ও মাদকের কুফল তুলে ধরে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজ থেকে এসব অপসংস্কৃতি দূর করা সম্ভব।
আঞ্জুমানে রজরিয়া ট্রাস্টের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মুহাম্মদ আবুল কাশেম নূরী। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম-ওলামা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
