মাটিরাঙ্গায় পাহাড়ধসে ঘরহারা বৃদ্ধকে নতুন ঘর উপহার দিল সেনাবাহিনী

খাগড়াছড়ি মাটিরাঙ্গা 🏛️ রাজনীতি

জসীম উদ্দিন জয়নাল : টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধসে বসতঘর হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়া খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার এক বৃদ্ধের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ১৮ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি মাটিরাঙ্গা জোনের উদ্যোগে কচাকলা ত্রিপুরার হাতে নতুন ঘর তুলে দেওয়া হয়েছে। ১৯ জুলাই রবিবার

মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়নের দুর্গম তপ্ত মাস্টারপাড়া এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত কচাকলা ত্রিপুরার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়। মাটিরাঙ্গা জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খাঁন, পিএসসি, জি-এর নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঘরটি নির্মাণ করা হয়। তাঁর পক্ষে উপ-অধিনায়ক মেজর আলতাফ মাহমুদ রুবেল, পিএসসি, জি ঘরটি হস্তান্তর করেন।

অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব সুনি ত্রিপুরা, দয়া হেডম্যানপাড়ার হেডম্যান দ্বীনময় ত্রিপুরাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ধসে কচাকলা ত্রিপুরার মাটির তৈরি একমাত্র বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। আশ্রয় হারিয়ে তিনি প্রতিবেশীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি সেনাবাহিনীর নজরে এলে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং দ্রুত নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করে ঘরটি তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত কচাকলা ত্রিপুরা বলেন, সবকিছু হারিয়ে যখন তিনি অসহায় হয়ে পড়েছিলেন, তখন সেনাবাহিনী পাশে দাঁড়িয়ে তাকে নতুন করে বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছে। এ সহযোগিতার জন্য তিনি সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তাদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম পার্বত্য এলাকায় সম্প্রীতি, আস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

মাটিরাঙ্গা জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খাঁন, পিএসসি, জি বলেন, দেশের শান্তি ও উন্নয়নের পাশাপাশি যেকোনো মানবিক সংকটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *