বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে পার্বত্য সচিব

খাগড়াছড়ি ব্রেকিং নিউজ

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক : খাগড়াছড়ির বন্যাকবলিত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন শেষে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মিজানুর রহমান। ১৩ জুলাই সোমবার  দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে ছোট মেরুং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ৩০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মো. মিজানুর রহমান বলেন, কোনো বন্যাদুর্গত মানুষকে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন শেষে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, এবারের বন্যায় খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকায় বসতঘর, কৃষিজমি, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তাদের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।

পার্বত্য সচিব জানান, সরকারের পক্ষ থেকে খাগড়াছড়ির জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে। ভবিষ্যতে অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে সেটিও নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দ্রুত ফিরিয়ে আনা। এজন্য পুনর্বাসন কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

পরিদর্শনকালে সচিব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ত্রাণ বিতরণ, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা প্রণয়ন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। পরে তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। ইতোমধ্যে বসতঘর, কৃষিজমি, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের কাজ চলছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

এদিন সরকারের মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে দীঘিনালা উপজেলার ৩০০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মেহেদী, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ চাকমা (রিংকু), দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তালজিল পারভেজসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *