জসীম উদ্দিন জয়নাল,পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধিঃ
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় দীর্ঘ দিন ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদের শূন্যতার কারণে প্রশাসনিক কাজে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ইউএনও-এর কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। তবে একই সাথে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পালন করা একজন কর্মকর্তার পক্ষে অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাটিরাঙ্গা একটি সীমান্তবর্তী ও ভৌগোলিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। এখানে নিয়মিত ইউএনও না থাকায় সাধারণ প্রশাসনিক ফাইল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় সভা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মাঠ পর্যায়ের তদারকি আগের মতো গতিশীল হচ্ছে না।
স্থবির সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়মিত ইউএনও না থাকার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোতে। উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) এবং এডিপির বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বিল পাসের ক্ষেত্রে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। সময়মতো তদারকি ও সই না হওয়ায় অনেক ঠিকাদার কাজ মাঝপথে থামিয়ে রেখেছেন। ফলে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সমাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে মাটিরাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীতি পিয়া কে ইউএনও-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানান,”ভূমি অফিসের নামজারি, খতিয়ান সংশোধন এবং মিস কেসের শুনানির মতো জটিল কাজ শেষ করে আবার ইউএনও অফিসের দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ সামলানো একজন মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এর ফলে কোনো দপ্তরের কাজই শতভাগ সুচারুভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না।
চরম ভোগান্তিতে সাধারণ নাগরিকরা উপজেলার দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে আসা শত শত মানুষ প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন সনদপত্র, অনুদানের আবেদন, এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
তবলছড়ি থেকে আসা এক সেবাগ্রহীতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটা জরুরি সিগনেচারের জন্য তিন দিন ধরে আসছি। স্যার কখনো ল্যান্ড অফিসে থাকেন, কখনো এই অফিসে। অতিরিক্ত কাজের চাপে তাকে পাওয়াই কঠিন হয়ে গেছে।”
সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, মাটিরাঙ্গার মতো একটি জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় অতি দ্রুত একজন স্থায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদায়ন করা না হলে প্রশাসনিক স্থবিরতা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে এবং সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজগুলো মুখ থুবড়ে পড়বে। তারা দ্রুত এই শূন্যতা পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
