মো. সোহেল রানা :
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের কাছে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দিতে ওয়াশসেবা উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার বাস্তবায়নে এবং হেলভেটাস বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় ‘Increasing Access to Improved WASH Services in Bangladesh (IWASH)’ প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার প্রোগ্রাম ম্যানেজার ধনেশর দেওয়ান, হেলভেটাস বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অফিসার দীপ্তিময় চাকমা এবং কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সদস্যরা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, চ্যারিটি: ওয়াটারের অর্থায়নে এবং হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় ‘IWASH’ প্রকল্পটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে দীঘিনালা উপজেলায় কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রকল্পটির কার্যক্রম ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে।
সভায় উপজেলার বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা, অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় কবাখালী ও দীঘিনালা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য একাধিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নারিকেল বাগান এলাকায় গভীর নলকূপ থেকে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।
এ ছাড়া দুর্গম ও উঁচু পাহাড়ের শুকনাছড়া এলাকায় পৃষ্ঠস্থ পানি পরিশোধন করে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পের মাধ্যমে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। মুসলিমপাড়া ও দক্ষিণ পুকুরঘাট এলাকায় আর্সেনিক ও আয়রন অপসারণের জন্য পানি পরিশোধন ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাজাছড়া জোড়াব্রিজ উচ্চ বিদ্যালয়ে নিরাপদ পানি সরবরাহের পাশাপাশি ওয়াশ ব্লক ও হাইজিন কর্নার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষ আর্সেনিক ও আয়রনমুক্ত নিরাপদ পানি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্গম ও উঁচু পাহাড়ি এলাকায় বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। তাই সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক পানি সরবরাহ ও পরিশোধন ব্যবস্থা এসব এলাকার মানুষের নিরাপদ পানির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সভায় প্রকল্পের কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
