প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি ও পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে রাঙামাটির সাজেকে পর্যটকদের আগমন বাড়ার প্রত্যাশা করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে সড়ক অবরোধের কারণে পর্যটন কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে পর্যটকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি পর্যটননির্ভর স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগার নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
১১ অক্টোবর রোববার সকাল ৬টা থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ডাকা এ কর্মসূচির কারণে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। স্থানীয় সূত্রের হিসাবে, এতে দেড় থেকে দুই হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় আটকে পড়া পর্যটকদের একটি বড় অংশকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
অবরোধের কারণে সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। পর্যটকদের আগমন কমে গেলে এসব খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী, গাড়িচালক, ট্যুর অপারেটর ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্গাপূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের বরণ করে নিতে অনেক ব্যবসায়ী তাঁদের প্রতিষ্ঠান সাজানো ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু সড়ক অবরোধের কারণে সেই পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পর্যটকদের বুকিং ও ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশাও বাড়ছে।
এদিকে, অবরোধ পরিস্থিতির মধ্যে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে। বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সাজেকের পর্যটনশিল্পের সঙ্গে এলাকার বহু পরিবারের জীবিকা জড়িত। পর্যটক কমে গেলে আবাসন, খাবার, পরিবহন ও অন্যান্য সেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা জরুরি।
পর্যটন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখা, নিরাপত্তা জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে, তা নির্ভর করছে সামগ্রিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যটননির্ভর মানুষের জীবিকা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
