মো. সোহেল রানা : খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দুইটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ১১ আগস্ট মঙ্গলবার প্রকাশিত ফলাফলে উপজেলার ২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ২৪ শতাংশ।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১ হাজার ৬২২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৯২ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ২৩০ জন।
কবাখালী ইউনিয়নের তারাবনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাঁচজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। একইভাবে বাবুছড়া ইউনিয়নের জারুলছড়ি হেডম্যানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি।
ফলাফলে বড় ধরনের ধস নামলেও তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ছয়জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন, দীঘিনালা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুইজন এবং দীঘিনালা বড়াদম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
তারাবনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীলোৎপল চাকমা বলেন, শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে দিকনির্দেশনা দিতে না পারার দায় শিক্ষকদেরও রয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকত না। পাশাপাশি অভিভাবকদের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং শিক্ষার্থীদের মোবাইল ও অনলাইন গেমে আসক্তিও ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আনন্দ মোহন চাকমা বলেন, ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ও অভিভাবকদের অসচেতনতা থাকতে পারে। শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
দীঘিনালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, এ বছর উপজেলায় এসএসসিতে গড় পাসের হার ২৪ শতাংশ। দুইটি বিদ্যালয়ের পাসের হার শূন্য। ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
