খাগড়াছড়িতে দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণে সামারি ট্রায়ালের সাফল্য:

অপরাধ খাগড়াছড়ি

 সবুজ পাতার ডেস্ক :  

মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে বিচার প্রার্থীদের দ্রুত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি জেলার বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, খাগড়াছড়িতে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে ‘সামারি ট্রায়াল’ বা সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি। ২০২৬ সালের আগস্ট মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে মাদক মামলাসহ অন্যান্য সাধারণ অপরাধের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
চালুর পর থেকে মাত্র দেড় মাসেরও কম সময়ে ইতোমধ্যে সফলভাবে ৩২টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এই ‘সামারি ট্রায়াল’ বা সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির মাধ্যমে একদিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করে আসামীকে সাজা পরোয়ানা মূলে জেলে পাঠানো যাচ্ছে। যা অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারীদের সর্তক বার্তা দিচ্ছে।
এতে করে পাহাড়ি এই জেলায় দ্রুত বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে সামারি ট্রায়াল এক যুগান্তকারী ও কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে মামলার জট কমাতে এবং তুচ্ছ বা কম গুরুতর অপরাধের আসামিদের মাসের পর মাস আদালতের বারান্দায় ঘোরার ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে এই সামারি ট্রায়াল নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে।

সামারি ট্রায়াল কী এবং খাগড়াছড়িতে এর অর্জন:
সামারি ট্রায়াল বা সংক্ষিপ্ত বিচার হলো এমন একটি আইনি প্রক্রিয়া, যেখানে আইনগত জটিলতা ও দীর্ঘ কার্যপ্রণালী এড়িয়ে সংক্ষিপ্ত সাক্ষ্য ও শুনানির মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে রায় প্রদান করা হয়। খাগড়াছড়ি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিদিন এই ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নিচে এর সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
সূচক বিবরণ কার্যক্রম শুরুর সময়:
আগস্ট, ২০২৬
মোট নিষ্পত্তি হওয়া মামলা: ৩১টি (চলতি ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত)
প্রধান মামলার ধরণ:
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা এবং অন্যান্য লঘু অপরাধ।
মূল সুবিধা: কম সময়ে রায়, খরচ হ্রাস, ভোগান্তি অবসান এবং কারাগারের ওপর চাপ কমানো।
দ্রুত বিচার নিশ্চিতে সামারি ট্রায়ালের ভূমিকা মাদক মামলার দ্রুত সমাধান: খাগড়াছড়ি জেলায় মাদক সংক্রান্ত ছোটখাটো মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে এসব মামলা প্রতিদিন শুনানির তালিকায় এনে দ্রুত নিষ্পত্তি করায় অপরাধীরা যেমন দ্রুত শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছে, তেমনি নির্দোষ ব্যক্তিরাও দ্রুত খালাস পাচ্ছেন।
মামলার জট নিরসন: চিরাচরিত দীর্ঘমেয়াদী বিচার প্রক্রিয়ার কারণে আদালতে যে মামলার পাহাড় জমে, সামারি ট্রায়াল তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনছে।
বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি ও খরচ হ্রাস: প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বারবার আদালতে হাজিরা দেওয়ার খরচ ও শারীরিক ভোগান্তি থেকে সাধারণ মানুষ রেহাই পাচ্ছে। এক বা দুই শুনানিতেই মামলার চূড়ান্ত সুরাহা হয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য: খাগড়াছড়ির আইনজীবী ও সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা আদালতের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয় আইনজীবীদের মতে, সামারি ট্রায়ালের নিয়মিত কার্যকারিতা বজায় থাকলে খাগড়াছড়ি বিচার বিভাগে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। ছোট মামলার দ্রুত রায়ের ফলে বড় ও গুরুতর মামলাগুলোর দিকে বিচারকগণ আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন।উপসংহার:খাগড়াছড়ি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ দেশের অন্যান্য জেলার আদালতের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ৩১টি মামলা নিষ্পত্তির এই ধারা বজায় থাকলে খাগড়াছড়িতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আরও বেগবান হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *