সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ঘর পাচ্ছেন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বৃদ্ধ

খাগড়াছড়ি মাটিরাঙ্গা

জসীম উদ্দিন জয়নাল : টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধসে বসতঘর হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়া এক বৃদ্ধের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ১৩ জুলাই সোমবার খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তপ্ত মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা কচাকলা ত্রিপুরার জন্য গুইমারা রিজিয়নের ১৮ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির আওতাধীন মাটিরাঙ্গা জোন এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সোমবার মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়নের দুর্গম তপ্ত মাস্টারপাড়া এলাকা পরিদর্শন করেন মাটিরাঙ্গা জোনের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খান পিএসসি জি। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কচাকলা ত্রিপুরার সঙ্গে কথা বলেন এবং তার জন্য নিরাপদ একটি নতুন বসতঘর নির্মাণের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে মাটিরাঙ্গা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর আলতাফ মাহমুদ রুবেল পিএসসি জি, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব সুনি ত্রিপুরা, দয়া হেডম্যানপাড়ার হেডম্যান দ্বীনময় ত্রিপুরাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসের কারণে তপ্ত মাস্টারপাড়ায় কচাকলা ত্রিপুরার মাটির তৈরি একমাত্র বসতঘরটি ধসে পড়ে। ঘর হারিয়ে তিনি প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। বিষয়টি জানার পর মাটিরাঙ্গা জোনের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মানবিক বিবেচনায় নতুন ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়।

নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কচাকলা ত্রিপুরা বলেন, সবকিছু হারিয়ে যখন তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন, তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার পাশে দাঁড়িয়েছে। এই সহায়তা তাকে নতুনভাবে বেঁচে থাকার আশা জুগিয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দুর্যোগের সময়ে এমন সহায়তা দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আস্থা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও শক্তিশালী করবে।

মাটিরাঙ্গা জোনের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খান পিএসসি জি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সবসময় রয়েছে। ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *