জসীম উদ্দিন জয়নাল :
দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা ও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের যৌথ মধ্যস্থতাকারী দল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবরোধকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করে চলমান সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
২৪ অক্টোবর শনিবার সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় সাজেক সড়কে অবরোধের কারণে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ওই দিন রাত সাড়ে ৮টায় সেনা রিজিয়নের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভার বিষয়গুলো জানানো হয়।
সভায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বেসামরিক প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং সাজেকের পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংকট নিরসনে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং বেসামরিক প্রশাসনের মাধ্যমে অবরোধকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আলোচনার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির নিরাপত্তা বাহিনী, জেলা পরিষদ এবং বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ মধ্যস্থতাকারী দল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত দলের নেতৃত্বে থাকবেন সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
সভায় বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সাজেক সড়কে অবরোধ চলায় স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও সার্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই জনদুর্ভোগ কমিয়ে দ্রুত সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সড়ক অবরোধের ক্ষেত্রে কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা এবং আন্দোলনকারীদের কর্মকাণ্ডে প্রকাশ্যে মদদ দেওয়ার অভিযোগে সংগঠনটিকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সভা শেষে জনদুর্ভোগ কমানো, এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর থাকার নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
