মো. সোহেল রানা :
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা বন বিহারে ধর্মীয় মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করা হয়েছে। ২৫ অক্টোবর রোববার দীঘিনালা বন বিহার পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান ধর্মীয় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা বন বিহারের আজীবন অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তে। বিশেষ অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য শান্তি প্রিয় চাকমা, কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা এবং বোয়ালখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমাসহ অন্যরা।
সকাল ৯টা থেকে বুদ্ধপূজা, বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, ধর্মদেশনা ও প্রার্থনাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা অংশ নিয়ে বুদ্ধের অহিংসা, শান্তি, মৈত্রী ও করুণার বাণী স্মরণ করেন।
প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে শুরু হওয়া তিন মাসের বর্ষাব্রত শেষে আশ্বিনী পূর্ণিমায় এ উৎসব পালিত হয়। এ সময় বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বর্ষাব্রত সমাপ্ত করেন এবং আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ধর্মীয় অনুশীলনের মাধ্যমে জীবন পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উৎসব উপলক্ষে দীঘিনালা বন বিহার ও আশপাশের এলাকায় ধর্মীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিহার প্রাঙ্গণে সমবেত ধর্মপ্রাণ মানুষ দেশ ও জাতির মঙ্গল, বিশ্বশান্তি এবং সকল প্রাণীর সুখ-শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করেন।
প্রবারণা পূর্ণিমার মূল শিক্ষা আত্মশুদ্ধি, ক্ষমাশীলতা, অহিংসা ও সম্প্রীতির চর্চা। এ শিক্ষা ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ধারণের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধরা। এ উৎসবের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।
