সরকার ও এনজিওর সমন্বিত উদ্যোগেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব বলে মন্তব্য এমপি ওয়াদুদ ভূঁইয়ার

খাগড়াছড়ি অর্থনীতি জাতীয়

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক : সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, স্থানীয় সরকার ও কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। ৩ আগস্ট সোমবার খাগড়াছড়ি শহরের পর্যটন মোটেলে আয়োজিত জেলা পর্যায়ের এক অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে দেশের সব মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় কার্যকর সেবা পৌঁছে দিতে হবে।

জাবারাং কল্যাণ সমিতির আয়োজনে এবং হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সভায় ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে তার সুফল আরও বেশি মানুষ পাবে।

তিনি বলেন, সরকারি সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের কাছে সময়মতো সব ধরনের সেবা পৌঁছে দেওয়া সবসময় সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো তৃণমূল পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে সরকারি সেবার ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ করছে।

শিশু পুষ্টি ও মাতৃস্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে পুষ্টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ ধরনের প্রকল্প দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা। সঞ্চালনা করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী বিনোদন ত্রিপুরা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য রক্তোৎপল ত্রিপুরা এবং হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের টিম লিডার এস এম খলেদুল আহসান।

সভায় জানানো হয়, প্রকল্পটির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা বৃদ্ধি, শিশু ও মাতৃপুষ্টির উন্নয়ন, স্বাস্থ্যগত সক্ষমতা জোরদার এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, উন্নয়ন সংস্থা ও কমিউনিটির সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *