মহালছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারে রেড ক্রিসেন্টের খাদ্য সহায়তা

খাগড়াছড়ি অর্থনীতি মহালছড়ি

ছানোয়ার হোসেন :

খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, খাগড়াছড়ি ইউনিট। ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে চৌংড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সহায়তা দেওয়া হয়।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা। খাগড়াছড়ি জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি আব্দুল মজিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য কুহেলি দেওয়ান ও তাসলিমা সিরাজ সীমা, মহালছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন এবং মহালছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মির্জা জহির উদ্দিন।

প্রধান অতিথি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার মানবিক দায়িত্ব। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ কমাতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

রেড ক্রিসেন্টের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্যোগের সময়ে খাদ্য সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক। তিনি জানান, খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়াও প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে থাকেন।

অনুষ্ঠানে মহালছড়ির বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের প্রত্যেককে একটি করে ফুড প্যাকেজ দেওয়া হয়। প্রতিটি প্যাকেজে ছিল ৭ দশমিক ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি চিনি ও ৫০০ গ্রাম সুজি।

খাগড়াছড়ি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি আব্দুল মজিদ বলেন, দুর্যোগ ও সংকটের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো রেড ক্রিসেন্টের নিয়মিত মানবিক কার্যক্রমের অংশ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক প্রয়োজন বিবেচনায় এ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।

খাদ্য সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সন্তোষ প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা জানান, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পর অনেক পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে পড়েছে। এমন সময়ে খাদ্য সহায়তা তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *