ছানোয়ার হোসেন:
দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা বাড়াতে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত তিন সপ্তাহব্যাপী ধাত্রীবিদ্যা ও নার্সিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার মহালছড়ি সেনা জোনের আয়োজনে প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে নির্বাচিত ২৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে প্রশিক্ষণের সনদ ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহারের জন্য ফার্স্ট এইড কিট তুলে দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ৯ জন পাহাড়ি ও ১৬ জন বাঙালি ছিলেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহালছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-জাবির আসিফ, পিএসসি। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা ও শান্তি-সম্প্রীতির পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তায় সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ও তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ বাস্তবতায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে মা ও নবজাতকের প্রাথমিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নিরাপদ মাতৃত্ব, প্রসবকালীন জটিলতা মোকাবিলা, প্রসব-পরবর্তী মা ও নবজাতকের পরিচর্যা, সর্পদংশনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং বিভিন্ন জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
সনদ ও প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী পেয়ে প্রশিক্ষণার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা জানান, দুর্গম এলাকায় জরুরি মুহূর্তে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা নিজ নিজ এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে কাজে লাগবে বলে তারা আশা করছেন।
অনুষ্ঠানে মহালছড়ি জোনের সামরিক কর্মকর্তারা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স, প্রশিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
