প্রতিনিধি:
পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই ও সহনশীল জীবিকা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে ‘পার্টনারশিপ ফর রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুড ইন দ্য চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস’ (পিআরএলসি) প্রকল্পের লার্নিং শেয়ারিং কর্মশালা ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের কনফারেন্স হলে তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা-আলোর আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত সভায় প্রকল্পের অগ্রগতি, অর্জন, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রিপন চাকমার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মেহেদী।
সভায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে কৃষি, জীবিকা, পুষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রকল্পের কার্যক্রমে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
মো. ইলিয়াস মেহেদী বলেন, প্রকল্পের উপকারভোগীদের মতামত ও অভিজ্ঞতা সরাসরি জানার বিষয়ে তাঁর আগ্রহ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কর্মসূচিতে তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি প্রকল্পের অংশীদার সংগঠনগুলোকে লক্ষ্মীছড়ি ও গুইমারা উপজেলার দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের কাছে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত সদস্যদের প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের আওতায় কৃষি ও জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিতরণ করা উপকরণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রিপন চাকমা জানান, পিআরএলসি প্রকল্পের আওতায় কৃষি ও জীবিকা উন্নয়ন, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা এবং দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলার মধ্যে লক্ষ্মীছড়ি ও গুইমারাকে প্রকল্পের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ দুটি উপজেলায় মোট ৪ হাজার ৬১৮টি পরিবারকে প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে লক্ষ্মীছড়িতে ২ হাজার ৩০৯টি এবং গুইমারায় ২ হাজার ৩০৯টি পরিবার রয়েছে।
রিপন চাকমা বলেন, দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করে তাদের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটানোই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। এ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে মানুষের জীবিকা আরও টেকসই করতে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। অভিজ্ঞতা বিনিময় ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
সভায় খাগড়াছড়ির ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. রতন খীসা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য রক্তোৎপল ত্রিপুরা, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ হোসেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর নিখিল চাকমা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুক্তা চাকমা, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুষ্মিতা খীসা এবং জেলা পরিষদ সদস্য কুহেলী দেওয়ান, রুমেল মারমা, নারায়ণ ত্রিপুরা ও তাজলিমা সিরাজ সীমা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর আনজুম বহ্নি চাকমাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা সভায় অংশ নেন।
