স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে সুদের কারবারের অভিযোগ খাগড়াছড়িতে শতাধিক পরিবার হয়রানির দাবি

অপরাধ অর্থনীতি খাগড়াছড়ি

আরিফুল ইসলাম মহিন : খাগড়াছড়ির প্রিয়া জুয়েলার্সের মালিক সঞ্জীব কুমার বণিকের বিরুদ্ধে স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে অবৈধ সুদের কারবার, বন্ধকি স্বর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আটকে রাখা এবং ব্ল্যাংক চেকে বড় অঙ্কের টাকা বসিয়ে মামলা করার অভিযোগ উঠেছে। ৯ আগস্ট রোববার ভুক্তভোগীরা এসব অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকারের দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আর্থিক সংকটে থাকা ব্যক্তিদের তুলনামূলক কম সুদে ঋণ দেওয়ার কথা বলে ব্ল্যাংক চেক, সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও স্বর্ণালংকার জামানত হিসেবে নেওয়া হতো। ঋণের মূল টাকা ও সুদ পরিশোধের পরও অনেকের জামানত ফেরত দেওয়া হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, পরে এসব ব্ল্যাংক চেকে ১০ লাখ থেকে ৪৭ লাখ টাকা পর্যন্ত অঙ্ক বসিয়ে এনআই অ্যাক্টে মামলা করা হয়েছে। এতে ঋণের টাকা পরিশোধের পরও অনেককে বড় অঙ্কের মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

সুরেন্দ্র ত্রিপুরা, মনিকা রানী দাশ ও শতাব্দী ত্রিপুরার দাবি, তারা নেওয়া ঋণের মূল টাকার চেয়ে কয়েকগুণ অর্থ পরিশোধ করলেও তাদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের টাকার মামলা করা হয়েছে। মামলার চাপ সামলাতে গিয়ে কেউ কেউ বসতভিটা ও সম্পদ বিক্রি করেছেন বলেও তারা জানান।

এক ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, তার ফার্মেসিতে কর্মরত এক কর্মচারীর মাধ্যমে একটি চেক চুরি করিয়ে পরে ওই চেকে ৩৫ লাখ টাকা বসিয়ে মামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে করা সিআইডির তদন্তে চেক চুরির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

খাগড়াছড়ি পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অশোক মজুমদার অভিযোগগুলোর দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) খাগড়াছড়ি শাখার আহ্বায়ক সঞ্জয় পাল বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ কারণে তারা সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রিয়া জুয়েলার্সের মালিক সঞ্জীব কুমার বণিক। তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই হয়েছে। অবৈধ সুদের কারবার ও প্রতারণার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, অবৈধভাবে সুদের কারবার পরিচালনা করা বেআইনি। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

ভুক্তভোগীরা ঋণ পরিশোধের পর আটকে থাকা স্বর্ণ, দলিল ও অন্যান্য জামানত ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *