মো: সোহেল রানা : খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় বন্যাকবলিত ঋণগ্রহীতাদের জন্য সরকারের তিন মাসের কিস্তি স্থগিতের নির্দেশনা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও একটি এনজিওর বিরুদ্ধে ঋণের কিস্তি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ২৭ জুলাই সোমবার সকালে উপজেলার পশ্চিম কাঁঠালতলী এলাকায় এনজিও আশা-এর মাঠকর্মীরা বিভিন্ন সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে কিস্তি আদায়ের জন্য যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় ঋণগ্রহীতারা।
এর আগে গত ১৩ জুলাই মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার ক্ষুদ্রঋণ গ্রাহকদের ঋণের কিস্তি তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখতে সব লাইসেন্সধারী ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেয়।
পশ্চিম কাঁঠালতলী এলাকার এক ঋণগ্রহীতা মো. রমজান জানান, সোমবার সকালে আশা’র একজন মাঠকর্মী তার কাছ থেকে কিস্তির টাকা সংগ্রহ করেন। তিনি বলেন, সরকার কিস্তি আদায় স্থগিত করেছে বলে জানলেও মাঠকর্মীরা কিস্তি নিতে এসেছেন।
এলাকার কয়েকজন ঋণগ্রহীতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভবিষ্যতে ঋণ পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তারা প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক বন্যায় আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় সংসার চালানোর পাশাপাশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে আশা’র মাঠকর্মী সূর্য চাকমা বলেন, শাখা ব্যবস্থাপকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি এলাকায় গিয়েছেন।
তবে আশা দীঘিনালা শাখার ব্যবস্থাপক সৈয়দ মো. ইয়াছিন দাবি করেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তিন মাস কিস্তি আদায় স্থগিত রয়েছে। মাঠকর্মীরা এলাকায় গিয়েছিলেন, তবে কেউ স্বেচ্ছায় কিস্তি পরিশোধ করতে চাইলে তা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মেহেদী বলেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কোনো ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান কিস্তি আদায় করে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
