ছানোয়ার হোসেন :
খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নের নুনছড়ি গুচ্ছগ্রাম থেকে মাহমুদা আক্তার মনি (১৯) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২৫ অক্টোবর রোববার সকালে স্বামীর বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
নিহত মাহমুদা আক্তার মনি মহালছড়ি সদর ইউনিয়নের সিলেটি পাড়ার মো. মজিবুর রহমান প্রকাশ মৌল্লার মেয়ে। ২০২৪ সালে নুনছড়ি গুচ্ছগ্রামের মো. নুর আলমের ছেলে মো. সুজনের (২৩) সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের এক বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
নিহতের শ্বশুর মো. নুর আলম জানান, শনিবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তাঁদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। রাতে পরিবারের সবাই একসঙ্গে খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান। ভোর ৪টার দিকে বাইরে থেকে ফিরে তিনি ছেলে সুজনের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। সুজন ঘুম থেকে উঠে দেখেন, পাশে সন্তান থাকলেও স্ত্রী নেই। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির একটি খালি ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। দরজা খুলে সেখানে মাহমুদার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান বলে জানান তিনি।
তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে মাহমুদাকে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন করা হতো। ঘটনার আগের দিনও তিনি ফোন করে মারধরের কথা জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তাঁর মামা মো. সমের আলী।
সমের আলী বলেন, ভাগ্নির নির্যাতনের কথা শুনে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। পরে তাঁর মৃত্যুর খবর পান। তাঁর সন্দেহ, মাহমুদাকে হত্যা করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তিনি।
মহালছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা জহির উদ্দিন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে, রোববার বিকেলে নিহতের মা মোছা. মনোয়ারা বাদী হয়ে মহালছড়ি থানায় আরেকটি এজাহার দায়ের করেন। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।
