প্রতিনিধি:
‘কিশোর গ্যাং নয়, গড়ব স্বপ্নের ভবিষ্যৎ—আজকের কিশোর, আগামীর নেতৃত্ব’ প্রতিপাদ্যে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারিয়া সুলতানা। এতে কিশোর গ্যাং ও মাদকাসক্তির ঝুঁকি, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কারণ এবং তা প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় কিশোর-কিশোরীদের ভালো বন্ধু নির্বাচন, পরিবারের নজরদারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও ফারিয়া সুলতানা বলেন, বিভিন্ন সময় দেখা যায়, পড়াশোনার কথা বলে কিছু কিশোর বাইরে আড্ডা দিচ্ছে বা ধূমপানের মতো ক্ষতিকর অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ছে। এ ধরনের অভ্যাস অনেক সময় ধীরে ধীরে মাদকাসক্তি ও অপরাধপ্রবণতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তিনি বলেন, কিশোরদের একটি অংশ একপর্যায়ে মাদকের অর্থ জোগাড় করতে অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। এতে তারা পরিবার, বন্ধু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
কিশোরদের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, যারা বিপথে যাচ্ছে, তারা তাদেরই সমবয়সী বন্ধু। কী কারণে একজন কিশোর ভুল পথে যাচ্ছে, সে বিষয়ে কিশোরদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত জানা প্রয়োজন। এসব মতামত সমন্বিতভাবে সংশ্লিষ্টদের কাছে তুলে ধরার কথাও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং, মাদকাসক্তি ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে প্রশাসন, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিভিন্ন অংশকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। কিশোর-তরুণদের ইতিবাচক ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, যথাযথ দিকনির্দেশনা ও সহায়ক পরিবেশ পেলে আজকের কিশোররাই ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের নেতৃত্ব দিতে পারে। এজন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, কিশোর-কিশোরী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
