মোহাম্মদ ইউনুছ :
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের লম্বাবিল তিতারপাড়া এলাকায় জাফর আলম বাবুল নামে এক কাঠ ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে কেয়াং মন্দিরের সামনে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং এলাকা নিরাপত্তার আওতায় নেয়। নিহত জাফর আলম বাবুল লম্বাবিল এলাকার বাসিন্দা এবং কাঠ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাবুল বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, কেয়াং মন্দিরের সামনে তার মরদেহ পড়ে আছে।
বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মনিরুজ্জামান সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে কোকসিং মার্মা (৩০) নামে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া মন্দিরের ভেতরে অংকিয় চিং মার্মা নামে আরও একজন অবস্থান করছিলেন বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে বাইশারী এলাকায় মাদক ও জুয়ার কর্মকাণ্ড বেড়েছে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে বিরোধ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে তাদের দাবি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হলেও হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করা হবে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের নজরদারি রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলছে।
