হলাপ্রুসাই মারমা :
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কাজ করে আসা ‘কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং লাইব্রেরি’ ছয় বছর পূর্ণ করেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার গুইমারা উপজেলার দুর্গম বড়থলি এলাকায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
বড়থলি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও গাছের চারা বিতরণ, কুইজ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং লাইব্রেরির সভাপতি তানিমং মারমা। প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শিশু আইসিইউ বেবি কেয়ার হাসপাতালের সাবেক মেডিকেল অফিসার ডা. রোনেক্স চৌধুরী। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন লাইব্রেরির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অংসাচিং মারমা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. রোনেক্স চৌধুরী বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় লাইব্রেরিকে কেন্দ্র করে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে একটি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে পাঠাগার সম্পাদক থৈঅংপ্রু মারমা, বড়থলি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উসাগ্য মারমা, বিএমসি খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অংগ্য মারমা, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মাঠ সংগঠক মংসানু মারমা, এইচএনসি অ্যান্ড ইউএসএনআই ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্ট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত তঞ্চগ্যা এবং সামাজিক সংগঠক আহ্লুরা মারমাসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ২০০ জন স্থানীয় বাসিন্দাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাতা-কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ এবং ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২৫ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে কুইজ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।
আয়োজকরা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ ভৌগোলিক কারণে নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। তাদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসচেতনতা, পরিবেশবান্ধব মানসিকতা ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতেই লাইব্রেরিকে কেন্দ্র করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক অংচিং মারমাসহ স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অভিভাবক ও স্থানীয়রা এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুর্গম এলাকায় শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং লাইব্রেরি ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
