মো. শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া আসাদ : খাগড়াছড়ি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নারায়ণ চন্দ্র খাঁর বিরুদ্ধে কাঁচামাল ক্রয়, প্রশিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণার্থীদের উপকরণ ও ভাতা বিতরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম, কমিশন গ্রহণ ও অর্থনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয়ে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিভিন্ন ট্রেড কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য কাঁচামাল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণ এবং নিম্নমানের কাঁচামাল সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে।
তাদের আরও অভিযোগ, সম্প্রতি চারটি পদে প্রশিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ শেষে বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ জব প্লেসমেন্ট পদে একজন নতুন গ্র্যাজুয়েটকে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রতিবেদকের কাছে পাওয়া যায়নি।
প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বরাদ্দ গেঞ্জি, ব্যাগ, খাতা-কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ সময়মতো না দেওয়া এবং নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন। পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের সম্মানী ভাতা বিলম্বে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীর দাবি, বিশেষ করে ড্রাইভিং কোর্সে ভর্তির সময় অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া এবং কোর্স শেষে পরীক্ষায় পাস বা ভালো গ্রেডের সনদ পাওয়ার জন্য বাড়তি টাকা চাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এসব অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিভিন্ন ট্রেডে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক, ইলেকট্রিক্যাল, ফ্রিজ ও এয়ারকন্ডিশনিং, ওয়েল্ডিং, ড্রাইভিং, কম্পিউটার, ফুড মেকার ও সুইং ট্রেডের কাঁচামাল কেনাকাটা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে বরাদ্দের তুলনায় কম পরিমাণ সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নারায়ণ চন্দ্র খাঁ দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। বরাদ্দ থাকার পরও দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত কাঁচামাল না থাকায় কিছু প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
এমনকি কাঁচামাল ছাড়াই চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থীরা একাধিকবার পরীক্ষা বর্জন করে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন বলেও জানা গেছে। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও অভিযোগের পর কাঁচামাল সরবরাহ করে পরীক্ষা নেওয়া হয় বলে অভিযোগকারীরা জানান।
এদিকে নারায়ণ চন্দ্র খাঁর পূর্বের কর্মস্থল বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম নিয়েও কিছু অভিযোগের কথা জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে নারায়ণ চন্দ্র খাঁ বলেন, তিনি কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কাঁচামালের পরিমাণে কিছুটা কমবেশি হতে পারে, তবে এর সঙ্গে দুর্নীতির কোনো সম্পর্ক নেই। তার চাকরিজীবনে দুর্নীতির কোনো রেকর্ড নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, চাকরিজীবনের শেষ সময়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে অবসরে যেতে চান না।
অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীরা বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
