চাইথোয়াই মারমা :
কন্যাশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে খাগড়াছড়িতে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালিত হয়েছে।
১৪ অক্টোবর বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে দিবসের কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। পরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে কলেজের সম্মেলনকক্ষে সংগীত পরিবেশনা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধবিষয়ক নাটক ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করুন, মেয়ে শিশুর অধিকারে বিনিয়োগ করুন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরণ চাকমা। প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রুমানা আক্তার। কর্মসূচির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন উইমেন অ্যান্ড গার্লস এমপাওয়ারমেন্ট থ্রু ইনক্লুসিভ এডুকেশন ইন সিএইচটি (ডব্লিউজিইআইই) প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা পিউলি দেওয়ান।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহের কারণে অনেক কন্যাশিশুর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়। অল্প বয়সে মাতৃত্বের ঝুঁকিসহ নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এতে তাদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠা এবং ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
বক্তারা আরও বলেন, প্রতিটি কন্যাশিশুর নিজের স্বপ্ন পূরণের অধিকার রয়েছে। এ জন্য মেয়েদের শিক্ষা অব্যাহত রাখা, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কোনো কন্যাশিশু বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে পড়লে তা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিয়া সুলতানা, সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. জয়া চাকমা, খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শ্রীলা তালুকদার, ডব্লিউজিইআইই প্রকল্পের উপজেলা এডুকেশন ফ্যাসিলিটেটর পিপি রাণী ত্রিপুরা, প্রকল্পের ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিন কর্মকর্তা ইলেক্সিস চাকমা এবং জিআইইও কর্মকর্তা এলি ত্রিপুরাসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে কানাডা এবং ডব্লিউজিইআইই ও ইকোসিস্টেমস রেস্টোরেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট ইন চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস (ইআরআরডি-সিএইচটি) প্রকল্প সহযোগিতা করে।
আয়োজকেরা কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
