প্রতিনিধি :
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পর্যটন কার্যক্রম চালুর দাবিতে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের আশ্বাসে স্থগিত থাকা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার থেকে আবারও শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি।
১৪ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ি মুক্তমঞ্চে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও স্থানীয় ব্যক্তিদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা সাজেকের পর্যটনকেন্দ্র দ্রুত খুলে দেওয়া এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, সাজেক পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটননির্ভর মানুষের জীবিকা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
মানববন্ধন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার মাধ্যমে পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানান আয়োজকেরা।
বৃহস্পতিবার থেকে আবারও অবরোধের ঘোষণা
এদিকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন এক যৌথ বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক সড়কে পুনরায় অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।
বুধবার সংগঠন দুটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সভাপতি নতুন জয় চাকমার দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১১ অক্টোবর সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করা হয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, সাজেকের মাচলঙ এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু লারমা পক্ষের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন করা।
বিবৃতিতে সংগঠন দুটির নেতারা দাবি করেন, প্রশাসন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়ায় অবরোধ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও দাবি পূরণ হয়নি। এ কারণে পুনরায় অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানান।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, মাচলঙ এলাকার থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়ি এলাকায় পিসিজেএসএসের সন্তু লারমা পক্ষের সশস্ত্র সদস্যরা অবস্থান করছেন এবং স্থানীয়দের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
