প্রতিনিধি : চাকমা সম্প্রদায়ের কতিপয় নেতৃবৃন্দের দ্বারা ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে বাংলাদেশে ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের দাবিকে দেশস্বার্থবিরোধী ও উদ্বেগজনক কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট। সংগঠনটির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক এক বিবৃতিতে এ ধরনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের জীবনযাত্রা, কৃষি, শিল্প, পরিবহন ও অর্থনীতির সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ সরাসরি জড়িত। তাই দেশের বাইরে অবস্থান করে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি বা জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানানো অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। এ ধরনের বক্তব্যের পেছনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকলে তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য, আঞ্চলিক দাবি কিংবা জাতিগত পরিচয় নিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে মতপ্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে। তবে কোনো দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে এমন কোনো পদক্ষেপ কাম্য নয়, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের জীবন ও অর্থনীতির ওপর।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অংশ এবং এ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন, নিরাপত্তা, অধিকার ও শান্তির বিষয়গুলো দেশের অভ্যন্তরেই গণতান্ত্রিক আলোচনা, সংলাপ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান কোনো সমস্যার টেকসই সমাধান হতে পারে না।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বক্তব্যকে পুরো কোনো সম্প্রদায়ের অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে বিদেশে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বা সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশের জনগণের মৌলিক সুবিধা ব্যাহত করার মতো কোনো দাবি উত্থাপিত হয়ে থাকলে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য, প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি দায়িত্বশীলভাবে যাচাই করা জরুরি।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিদেশে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি, জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ কিংবা রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টা চালালে তা আইন ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকার ও আইনগত সীমারেখাও যথাযথভাবে বিবেচনায় রাখতে হবে।
থোয়াই চিং মং চাক বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের বিদ্যুৎ, ডিজেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সুবিধা বন্ধ করার আহ্বান কোনো জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ হতে পারে না। পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো সমস্যা থাকলে তার সমাধান হতে হবে দেশের সংবিধান, আইন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে।”
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের প্রধান চাহিদা শান্তি, নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন। তাই তাদের জীবন ও জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কোনো উদ্যোগকে সমর্থন না করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক দেশের নাগরিকদেরও কোনো গুজব বা যাচাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
