সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও অস্তিত্ব রক্ষায় সরকারের মহাপরিকল্পনা

অর্থনীতি জাতীয় পরিবেশ পার্বত্য চট্টগ্রাম

মো. আবদুল মতিন চৌধুরী : বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও অস্তিত্ব রক্ষায় মহাপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ৯ আগস্ট রোববার দ্বীপটির পরিবেশ সুরক্ষা, স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থ ও দেশের সার্বভৌমত্ব বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেন্টমার্টিন শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি দেশের ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না, যা ভবিষ্যতে দ্বীপটির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে।

তিনি জানান, ৮ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সেন্টমার্টিনজুড়ে প্রায় ২০ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। উপকূলীয় পরিবেশ ও মাটির উপযোগী প্রজাতি বাছাই করে এসব চারা লাগানো হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণে সৈকত থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমও চলছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্বীপের বাসিন্দারা সেন্টমার্টিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি তাদের স্বার্থ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব বিবেচনায় নিয়েই ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গাছ লাগানোর পাশাপাশি স্থানীয়দের এগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে সেন্টমার্টিনে প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার চারা রোপণ করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কোস্ট গার্ড, ওয়ার্ল্ড ভিশনসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেন্টমার্টিনের প্রাণ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো সবুজ, জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ ও টেকসই সেন্টমার্টিন গড়ে তোলা।

কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশকর্মী ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত তিন বছরে দেশজুড়ে ৩২ লাখ চারা রোপণ করেছে তারা। চলতি বছর কক্সবাজার জেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৭০টি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *