বিশ্ব শিক্ষক দিবসে খাগড়াছড়িতে গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা

🎓 শিক্ষা খাগড়াছড়ি

প্রতিনিধি:

শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও গুণী শিক্ষক সম্মাননা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪ অক্টোবর রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ, খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরণ চাকমা, শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যজ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি নৈতিকতা, মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও মানবিক গুণাবলি বিকাশেও শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তারা বলেন, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়ানো ছাড়া শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান অর্জন সম্ভব নয়। পাশাপাশি ভালো কাজের স্বীকৃতি শিক্ষকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি অন্যদেরও আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালনে অনুপ্রাণিত করবে।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে নির্বাচিত গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাতসহ অতিথিরা নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে সম্মাননা পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন টিএন্ডটি গেইট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রূপা মল্লিক রুপু, খাগড়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশা প্রিয় ত্রিপুরা এবং রামগড় বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসিমা বেগম।

মাধ্যমিক পর্যায়ে সম্মাননা পেয়েছেন নতুন কুড়ি ক্যান্টনমেন্ট হাই স্কুলের মো. সাইফুল ইসলাম এবং খাগড়াছড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক চম্পানন চাকমা।

উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন মেহেরুন্নেছা বেগম মিলি, দীঘিনালা রাশিক নগর দাখিল মাদ্রাসার মো. আশিকুর রহমান এবং খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের মো. জহিরুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, শিক্ষকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার কাজকে আরও উৎসাহিত করা যায়। এ ধরনের সম্মাননা শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে এবং শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে জেলার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক দায়িত্ব এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *