নেপালে দুর্যোগে নিহতদের আত্মার সদগতি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা
মো. সোহেল রানা : নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের আত্মার সদগতি এবং বিশ্বশান্তি কামনায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা বন বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহাসংঘদান ও মধু পূর্ণিমা উদযাপন করা হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার দীঘিনালা বন বিহার পরিচালনা কমিটির আয়োজনে দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মধু পূর্ণিমা উপলক্ষে ভোর থেকেই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিহার প্রাঙ্গণে সমবেত হতে থাকেন। এ সময় বুদ্ধপূজা, বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান ও মহাসংঘদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান ধর্মীয় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা বন বিহারের আজীবন অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তে। স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন কমিটির সভাপতি বিধর্ব রঞ্জন চাকমা।
অনুষ্ঠানে নেপালের সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের আত্মার শান্তি ও সদগতি কামনা করা হয়। পাশাপাশি আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সুস্থতা এবং দুর্গত মানুষের কল্যাণে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
মধু পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ভিক্ষু সংঘকে মধু ও বিভিন্ন ধর্মীয় দানসামগ্রী প্রদান করেন। ধর্মীয় আলোচনায় মধু পূর্ণিমার তাৎপর্য, দান, শীল ও মানবকল্যাণের বিষয়ে বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
প্রধান ধর্মীয় আলোচক নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তে বলেন, মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিন। দান ও ধর্মীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে মৈত্রী, করুণা, সহমর্মিতা ও শান্তির চর্চা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ভিক্ষু সংঘের সদস্য, স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেলে মাসব্যাপী পট্ঠান পাঠের সমাপনী অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে নেপালে দুর্যোগে নিহতদের আত্মার সদগতি, আহতদের সুস্থতা এবং বিশ্বের সব প্রাণীর শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে আয়োজন শেষ হয়।
