মো. রেজুয়ান খান : সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের সহায়তা সমন্বিতভাবে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়। ১৮ জুলাই শনিবার
বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগকালীন সময়ে কোনো সংস্থার একক উদ্যোগের পরিবর্তে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কে কত কাজ করেছে বা কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতার পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি মাঠপর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রকল্প গ্রহণের বিকল্প নেই। ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে জনগণের স্থায়ী উপকারে আসে এমন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং দপ্তরগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ যথাসময়ে সঠিকভাবে ব্যয় করতে হবে। বরাদ্দের অর্থ ফেরত যাওয়ার পরিবর্তে তা জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানোই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব।
সভায় জেলার সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র, চলমান ত্রাণ কার্যক্রম, পুনর্বাসন পরিকল্পনা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
