পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত
সবুজ পাতার ডেস্ক : দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ একটি কমিটির নেতৃত্বে এলেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের এই সংসদ সদস্য। ৬ সেপ্টেম্বর রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন ও পুনর্গঠনের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে অনুমোদনের মধ্য দিয়ে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
নতুন দায়িত্বের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনা, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং পাহাড়ের জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া জাতীয় সংসদে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ওয়াদুদ ভূইয়ার সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
খাগড়াছড়ির রাজনীতিতে ওয়াদুদ ভূইয়া দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। ১৯৮৯ সালে তিনি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়। ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৬ সালের ২২ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বোর্ডের সরকারি নথিতেও তাঁর দায়িত্ব পালনের সময়কাল উল্লেখ রয়েছে।
এ দায়িত্ব তাঁকে শুধু খাগড়াছড়ি নয়, রাঙামাটি ও বান্দরবানসহ পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেয়।
উন্নয়নের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান
ওয়াদুদ ভূইয়ার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন। তাঁর দায়িত্বকাল নিয়ে বিভিন্ন স্থানীয় ও রাজনৈতিক সূত্রে সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং দুর্গম এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে।
ওয়াদুদ ভূইয়া নিজেও বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছেন, তাঁর দায়িত্বকালে খাগড়াছড়ির শহর থেকে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। তাঁর নিজের নির্বাচনী হলফনামাতেও ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করার কথা উল্লেখ রয়েছে।
পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির বার্তা
পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিতে উন্নয়নের পাশাপাশি পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াদুদ ভূইয়া পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে খাগড়াছড়ির উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফলে নতুন দায়িত্বে তাঁর সামনে শুধু উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাগুলো সংসদীয় পর্যায়ে তুলে ধরারও সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এবার সামনে বড় দায়িত্ব
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে ওয়াদুদ ভূইয়ার দায়িত্বকে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা, দুর্গম এলাকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, পর্যটন, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান—এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রকল্প সংসদীয় পর্যায়ে পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিটির।
বিশেষ করে তিন পার্বত্য জেলার উন্নয়ন বৈষম্য কমানো, দুর্গম জনপদে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা নতুন কমিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসতে পারে।
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার নতুন ব্যবহার
দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এবং দীর্ঘদিনের জেলা বিএনপি নেতা হিসেবে ওয়াদুদ ভূইয়ার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে তিনি খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়েও দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসন থেকে বিজয়ী হয়ে তিনি আবার জাতীয় সংসদে ফিরেছেন। এবার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সরাসরি পার্বত্য অঞ্চলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেল।
খাগড়াছড়ির মানুষের প্রত্যাশা, অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন দায়িত্বে ওয়াদুদ ভূইয়া পাহাড়ের উন্নয়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও সম্প্রীতির বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবেন।
