মো. সোহেল রানা: খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে তৃতীয় দফায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ২৯ আগস্ট শনিবার শুক্রবার রাতের টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
মেরুং ইউনিয়নের বাঁচা মেরুং স্টিল ব্রিজ এলাকায় সড়ক ও ব্রিজের ওপর পানি ওঠায় দীঘিনালা-লংগদু সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে কবাখালী ইউনিয়নের মাইনী ব্রিজসংলগ্ন কবরস্থান এলাকায় পানি কম থাকায় দীঘিনালা-সাজেক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এক মাসের মধ্যে উপজেলায় তিন দফা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে নিচু এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে এবং অনেককে নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে।
মেরুং ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আনিসুর রহমান বলেন, উজানে বৃষ্টি হলেই বাঁচা মেরুং স্টিল ব্রিজ ও আশপাশের সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। তখন সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি তৈরি হয় এবং অনেক সময় নৌকা ব্যবহার করতে হয়।
কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা জ্ঞান বলেন, রাতের ভারী বৃষ্টিতে ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় পানি বেড়ে বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে। পানিবন্দি সাতটি পরিবার কবাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জন্য প্রাথমিকভাবে খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নতুন করে যেসব বাড়িতে পানি উঠছে, সেসব পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কবাখালী, বোয়ালখালী ও মেরুং ইউনিয়নের কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কবাখালী ইউনিয়নে সাতটি পরিবারের ২০ জন সদস্য আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের জন্য প্রাথমিক খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, পানি আরও বাড়লে ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
