জসীম উদ্দিন জয়নাল : খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ইউনিয়নে খালভাঙন প্রতিরোধে নির্মিত একটি সরকারি প্রকল্পের অংশ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ধসে পড়েছে। ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিসি ব্লক ও গাইডওয়ালের একটি অংশ ভেঙে খালে বিলীন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডাকবাংলা-কদমতলী সড়ক, খাদ্যগুদাম ও হাসপাতালসংলগ্ন এলাকা রক্ষায় তৈলাফাং খালের ভাঙন প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের একটি অংশ ধসে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা এইচ এম হেলাল উদ্দিন বলেন, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ চলাচল করেন। পাশাপাশি খাদ্যগুদাম, হাসপাতাল ও বিজিবির একটি বিওপিতে যাতায়াতের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। তার অভিযোগ, শুরু থেকেই নির্মাণকাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ ছিল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবলছড়ি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহিম মিজিবুর বলেন, সড়কের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সংস্কার না করা হলে পুরো সড়কটি আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যা খাদ্য পরিবহন ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, তৈলাফাং খালের ভাঙনের কারণে প্রতিবছরই এ সড়ক ঝুঁকিতে থাকে। স্থায়ী সমাধানের আশায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধর্মজ্যোতি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী অসীম দেওয়ানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী (ডিজাইন) আহমেদ রফিক বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি নকশাগত ত্রুটির কারণে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকরা প্রকল্পটির নির্মাণমান, তদারকি এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
