বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে টেকসই উন্নয়নের আশ্বাস দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

পার্বত্য চট্টগ্রাম রাঙামাটি 🏛️ রাজনীতি

প্রতিনিধি : রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। ১৫ জুলাই বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বাঘাইছড়ি ও লংগদুর বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন, দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। তিনি স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা শুনে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলার বারোবিন্দু ঘাট এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি প্রায় দুই কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্নির্মাণ, প্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মাণ এবং আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও ভূমি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। পর্যায়ক্রমে আধুনিক ভূমি অফিস, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, বাঘাইছড়ি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে নির্মাণকাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ, জলাধার ভরাট, পানি চলাচলের পথ সংকুচিত হওয়া এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব বেড়ে যাচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পরিকল্পিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

পরিদর্শনকালে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে সড়ক, কালভার্ট, কৃষিজমি, মাছের ঘের, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বহু বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *