ছানোয়ার হোসেন:
খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার দুটি কলেজে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। মহালছড়ি সরকারি কলেজ ও মাইসছড়ি কলেজের পাসের হার যথাক্রমে ১৬ দশমিক ৬১ এবং ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, মহালছড়ি সরকারি কলেজ থেকে এ বছর ৫৬০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৯৩ জন। অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৬৭ জন। কলেজটির পাসের হার ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে ২৬ জন, মানবিক বিভাগে ৫৮ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯ জন পাস করেছেন। এ কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি।
অন্যদিকে, মাইসছড়ি কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নিবন্ধিত ২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ২৩ জন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র একজন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ২২ জন। কলেজটির পাসের হার মাত্র ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এখানেও কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।
এ বিষয়ে মহালছড়ি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শামছুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত কলেজে উপস্থিতি ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। ভালো ফলাফলের জন্য নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি ও পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, আগামীতে উপজেলার দুটি কলেজের ফলাফল উন্নত করতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকির মাধ্যমে এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দুটি কলেজের এ ফলাফল উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। আগামী বছরগুলোতে ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষকদের জবাবদিহি, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।
মহালছড়ির শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করে ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল অর্জনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
