আরিফুল ইসলাম মহিন :
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় ১১টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হচ্ছে। ১৮ অক্টোবর রোববার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখর রয়েছে মণ্ডপগুলো। উৎসব শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসনের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি এবং বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এবারের পূজায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পুলিশ ও আনসার-ভিডিপিসহ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাকর্মীরা পূজামণ্ডপগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি) ও লোগাং জোনের উদ্যোগে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও পূজামণ্ডপের আশপাশে নজরদারির পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিজিবির সদস্যরা বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করছেন।
৩ বিজিবির অধিনায়ক ও লোগাং জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, পিপিএম (সেবা) বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নিচ্ছেন। এর আগে সম্প্রীতির বন্ধন জোরদারে বিজিবির পক্ষ থেকে পানছড়ি ও লোগাং এলাকার ছয়টি পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এগুলো হলো পানছড়ি বাজার কেন্দ্রীয় দেবালয়, আদি ত্রিপুরা পাড়া মন্দির, সাঁওতাল পাড়া লোকনাথ সেবাশ্রম, লোগাং হেডম্যান পাড়া দুর্গামন্দির, লোগাং বাজার বিগ্রহ মন্দির ও অষ্টমঙ্গলা শিব মন্দির।
এদিকে, পূজাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে সেনাবাহিনীর টহল ও নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন, বিজিবি, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সমন্বিত উদ্যোগে উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলছে।
এবারের দুর্গোৎসবে বাড়তি আকর্ষণ যোগ করেছে বড় সাঁওতালপাড়ার সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘দাসাই’ নাচ। ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে সাঁওতাল তরুণেরা বিভিন্ন পূজামণ্ডপে এ নাচ পরিবেশন করছেন। তাঁদের পরিবেশনায় উৎসবে যোগ হয়েছে ভিন্নমাত্রা। আয়োজকেরা জানান, নাচের মাধ্যমে পাওয়া উপহারসামগ্রী দিয়ে বিজয়া দশমীর পর সর্বজনীন খিচুড়ি উৎসবের আয়োজন করা হবে।
পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা নাসরিন জানান, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
উপজেলার ১১টি পূজামণ্ডপের মধ্যে রয়েছে পানছড়ি বাজার কেন্দ্রীয় দেবালয়, আদি ত্রিপুরা কালিমন্দির, সাঁওতালপাড়া লোকনাথ সেবাশ্রম দুর্গামন্দির, কুড়াদিয়াছড়া দুর্গা শ্রীশ্রী মন্দির, লোগাং বাজার অষ্টমঙ্গলা দুর্গামন্দির, বাউরাপাড়া দুর্গামন্দির, বৈশাখ কুমারপাড়া শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির, বাঁশপাড়া দেবালয় মন্দির, মরাটিলা সার্বজনীন শিবমন্দির, লোগাং বাজার বিগ্রহ কালীমন্দির এবং লোগাং হেডম্যানপাড়া দুর্গামন্দির।
পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা জানান, প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় ভক্তরা স্বস্তির সঙ্গে পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে এবারের দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
