মানিকছড়িতে দুই শিক্ষার্থীকে সহপাঠীদের দিয়ে মারধরের অভিযোগ

অপরাধ খাগড়াছড়ি মানিকছড়ি

মো. ইসমাইল হোসেন :

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির রানী নিহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এক শিক্ষকের নির্দেশে শ্রেণিকক্ষে দুই শিক্ষার্থীকে সহপাঠীদের দিয়ে চড়-থাপ্পড় মারানোর অভিযোগ উঠেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার এ ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা দাবি করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেরাজ জিসানের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের বাইরে এক শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয়। অপর শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাতকে অন্য শ্রেণির এক ছেলে শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। এ দুই অভিযোগের পর শিক্ষক নাঈমুল হক শ্রেণিকক্ষে তাদের সহপাঠীদের দিয়ে চড়-থাপ্পড় মারার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষক নিজে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মারধরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কেউ এতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকেও মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর দুই শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও অপমানিত বোধ করছে বলে তাদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

তবে বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ৪ অক্টোবর রোববার সকালে ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক নাঈমুল হক ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত এবং এমন আচরণ করা তার ঠিক হয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতাউল্লাহও ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কাম্য নয়।

এদিকে ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া ও বদলির দাবি জানিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবক এবং স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সিকদার জানান, অভিযোগের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এবং বিষয়টি তদন্তের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *