প্রতিনিধি:
‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ দিতে দুই দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ (ToT) কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৪ অক্টোবর রোববার সকালে খাগড়াছড়ি শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের আধুনিক কম্পিউটার ল্যাবে এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা।
দুই দিনের প্রশিক্ষণে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার মোট ২৩ জন সমাজসেবা কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষক হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা মাঠপর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলায় এ কর্মসূচির জন্য ইতোমধ্যে ২৮ জন সুপারভাইজার ও ২৯৮ জন তথ্য সংগ্রহকারী নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ম্রাসা থোয়াই মারমা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত সুবিধাভোগী পরিবার চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিরপেক্ষতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানান। কোনো ধরনের প্রভাব বা পক্ষপাতের বাইরে থেকে জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে প্রকৃত উপকারভোগী পরিবারগুলোর তথ্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তিনি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বর্তমানে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি।
ম্রাসা থোয়াই মারমা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুফল যাতে প্রকৃত হকদার ও প্রান্তিক পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ কার্যক্রমে জেলা পরিষদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মেহেদী, জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার, সদস্য তাজলিমা সিরাজ সীমাসহ সমাজসেবা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ও সরকারি সহায়তা আরও সুশৃঙ্খলভাবে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
