পানছড়ির প্রফুল্লপাড়ায় স্কুল পুনর্নির্মাণ ও সৌরচালিত পানির পাম্প

🎓 শিক্ষা খাগড়াছড়ি পরিবেশ পানছড়ি

জসীম উদ্দিন জয়নাল :

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার দুর্গম প্রফুল্লপাড়ায় শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন ও সুপেয় পানির সংকট নিরসনে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এর মধ্যে প্রফুল্লপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণ এবং ৪৫টি পরিবারের জন্য সৌরচালিত পানির পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ২ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে এসব কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

মাটিরাঙ্গা জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাসুদ খানের পক্ষে কার্যক্রম উদ্বোধন করেন জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর আলতাফ মাহমুদ রুবেল, পিএসসি, জি।

এ সময় উল্টাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আবুল হাশেম, প্রফুল্লপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজীব চাকমা এবং স্থানীয় কার্বারীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিদ্যালয়টির জরাজীর্ণ ভবন সরিয়ে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ ও উপযোগী পাঠদানের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ৪৫টি পরিবারের পানির চাহিদা মেটাতে সৌরশক্তিচালিত পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি পাড়ায় পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা এবং পানির ট্যাংকও স্থাপন করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজীব চাকমা বলেন, পুরোনো ভবনে পাঠদান নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হতো। নতুন ভবন হওয়ায় এখন শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে ক্লাস করার সুযোগ পাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রীমতি ত্রিপুরা জানায়, আগে বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ত এবং ভবনটি ছিল অনেক পুরোনো। নতুন ভবন হওয়ায় এখন তাদের বিদ্যালয়ের পরিবেশ অনেক ভালো লাগছে।

উল্টাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আবুল হাশেম বলেন, দুর্গম এলাকার দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সমস্যা এ উদ্যোগের মাধ্যমে অনেকটাই কমবে। ৪৫টি পরিবার এতে সরাসরি উপকৃত হবে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শান্তি জীবন ত্রিপুরা বলেন, পানির জন্য স্থানীয় নারী ও শিশুদেরও দূরের পথ পাড়ি দিতে হতো। সৌরচালিত পাম্প চালুর ফলে কাছাকাছি স্থান থেকেই পানি সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মাটিরাঙ্গা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর আলতাফ মাহমুদ রুবেল বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্গম এলাকার মানুষ সহজে নিরাপদ পানি পাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা উন্নত পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। এর ফলে স্থানীয় জীবনযাত্রা ও শিক্ষার পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মাটিরাঙ্গা জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাসুদ খান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি সরবরাহ ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *