লাখো ভক্তের সমাগমে আটরশিতে শুরু বিশ্ব উরস শরীফ ২০২৬


admin প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১১, ২০২৬, ৯:৫৫ পূর্বাহ্ন /
লাখো ভক্তের সমাগমে আটরশিতে শুরু বিশ্ব উরস শরীফ ২০২৬

 

আটরশি (ফরিদপুর), ১০ জানুয়ারি:

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের মহামহিম প্রতিষ্ঠাতা বিশ্ব ওলি হযরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) কেবলাজান ছাহেবের মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ শুরু হয়েছে। সাম্য, শান্তি ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশ-বিদেশ থেকে লাখো ভক্ত ও মুসল্লির সমাগম ঘটেছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশাল জামাত শেষে পবিত্র রওজা শরীফ জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উরস শরীফের কার্যক্রম শুরু হয়। চার দিনব্যাপী এই উরস শরীফ চলবে ১০, ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত। আগামী মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে উরস শরীফের সমাপ্তি ঘটবে।

উরস শরীফ উপলক্ষে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল প্রাঙ্গণকে নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে। দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ আশেকান, জাকেরান, ধর্মপ্রাণ মুমিন মুসলমান ও ভক্তবৃন্দ এতে অংশগ্রহণ করছেন। ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও মোনাজাতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন রাত ৩টায় রহমতের সময় থেকে শুরু হয়ে এশার নামাজের পর দয়াল নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ৫০০ বার দরুদ শরীফ নিবেদনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়। পাশাপাশি দিনব্যাপী ধর্মীয় আলোচনা ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের সুমহান প্রতিষ্ঠাতা বিশ্ব ওলি হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) ১৩৫৪ বঙ্গাব্দে ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে আগমন করেন। তিনি আটরশির নিরিবিলি পল্লীতে জাকের ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সত্য তরিকা ও ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা প্রচার শুরু করেন।

খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) যেদিন প্রথম আটরশিতে আসেন, সেদিন ছিল পবিত্র ঈদুল আজহার দিন। সে সময় এলাকায় ইসলামী অনুশীলন প্রায় অনুপস্থিত ছিল। ঈদের দিনেও মানুষ মাঠে লাঙ্গল-জোয়াল নিয়ে কাজ করত, নামাজ ও ধর্মীয় চর্চা ছিল খুবই সীমিত। এমনকি গরু কোরবানি দেওয়া হতো না এবং গরুর গোশতকে অনেকেই অস্পৃশ্য মনে করত। পার্শ্ববর্তী হিন্দু জমিদারের পূজায় এলাকার মুসলমানরা অংশগ্রহণ করত এবং প্রসাদ গ্রহণ করত। ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধ ছিল তাদের কাছে অপরিচিত।

সেই ঈদের দিন মাত্র তিনজন সঙ্গী নিয়ে তিনি পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেনÑ“হে আল্লাহ! আজ আমরা অল্প কয়েকজন ঈদের নামাজ আদায় করলাম, তুমি দয়া করে এখানে একদিন বিশাল ঈদের জামাত কায়েম করে দাও।” মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ সেই স্থানে লক্ষ লক্ষ মুসল্লির অংশগ্রহণে বিশাল ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ফরিদপুর জেলার গেরদা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেছিলেন হযরত ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.)-এর দাদাপীর হযরত সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রহ.)। সত্য ইসলামের হিদায়াত প্রচারে বাধার সম্মুখীন হয়ে তিনি একসময় ফরিদপুর ত্যাগ করে কলকাতায় গমন করেন। বিদায়ের প্রাক্কালে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছিলেনÑ“এখানে আমার গোলামের গোলাম আসবে, যার সামনে কোনো অপশক্তিই টিকতে পারবে না।”

পরবর্তীতে সেই ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়। হযরত এনায়েতপুরী (কু.) ও তাঁরই গোলাম খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) ইসলামের সত্য প্রচার ও হিদায়াতের বাণী ছড়িয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বিশাল পুণ্যভূমি ‘বিশ্ব জাকের মঞ্জিল’। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শে আদর্শবান হয়ে তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর নিজ পীরের সংস্পর্শে সাধনায় মগ্ন ছিলেন। তাঁর জীবনযাপন ছিল রাসুল (সা.)-এর সুন্নতের পরিপূর্ণ অনুসরণ এবং চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছিল নবীজির আদর্শ।