
প্রতিনিধি : পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বছরের প্রথম দিনে কাসেমপাড়ায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট। ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের পরিচয় তুলে ধরে স্থানীয় জনগণের মাঝে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা পৌঁছে দিতে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং শাক, কেন্দ্রীয় সদস্য শাহীন আলম, বান্দরবান জেলার সংগঠক অং সি থোয়াই মারমা, শরিফুলসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তারা মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে লিফলেট তুলে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, নিরাপত্তা ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
বিতরণকৃত লিফলেটে পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভূমি সমস্যার ন্যায্য ও টেকসই সমাধান, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা বন্ধ, সকল জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্যহীন সহাবস্থান এবং সব জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিসহ দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ সময় সংগঠনের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং শাক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দারা বাংলাদেশের নাগরিক হলেও এখনো অনেক ক্ষেত্রে ১৯৭২ সালের সংবিধানের পরিবর্তে ১৯০০ সালের ব্রিটিশ রেগুলেশন আইনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে, যা এক ধরনের দ্বৈত আইন ব্যবস্থা সৃষ্টি করেছে। এই দ্বৈত আইন কাঠামো বিলুপ্ত না হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং বিশেষভাবে তরুণ সমাজকে বিভেদ ও সহিংসতার রাজনীতি থেকে দূরে রেখে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার পথে এগিয়ে নিতে হবে।
সিএইচটি সম্প্রীতি জোট জানায়, আগামী এক মাস ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি—এই তিন জেলায় ধারাবাহিকভাবে লিফলেট বিতরণ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :