ফুলবিজুতে রঙিন-পাহাড়-উৎসবের আমেজে মুখর খাগড়াছড়ি


admin প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১২, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ন /
ফুলবিজুতে রঙিন-পাহাড়-উৎসবের আমেজে মুখর খাগড়াছড়ি

মোঃ শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া আসাদ : চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব ফুলবিজুর মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদে শুরু হয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরা বর্ষবরণ আয়োজন। পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে তিন দিনব্যাপী বিজু উৎসবের সূচনায় সবুজ পাহাড়জুড়ে বইছে উৎসবের জোয়ার।

রবিবার ১২ এপ্রিল ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন নদী, ছড়া ও ঝরনায় মানুষের ঢল নামে। চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ বিভিন্ন স্থানে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী এবং নারী-পুরুষ দলবদ্ধভাবে ফুল সংগ্রহ করে নদীতে ভাসিয়ে মঙ্গল কামনা করেন। গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল উৎসর্গের মধ্য দিয়ে তারা শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুন্দর ভবিষ্যতের প্রার্থনা করেন।

ফুলবিজু মূলত চাকমা সম্প্রদায়ের বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের প্রথম দিন। এদিন ভোরে ফুল সংগ্রহ করে একাংশ বুদ্ধ পূজায় ব্যবহার করা হয় এবং অন্য অংশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। ঘরবাড়ি পরিষ্কার করে সাজানোও এই দিনের অন্যতম অনুষঙ্গ।

চৈত্র মাসের শেষ দিন ১৩ এপ্রিল পালিত হবে মূলবিজু। এদিন সকালে বুদ্ধমূর্তি স্নান করিয়ে পূজা করা হয়। পাশাপাশি পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের আপ্যায়নে ঘরে ঘরে রান্না করা হয় পোলাও, পায়েস ও ঐতিহ্যবাহী পাচনসহ নানা খাবার। বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান জানিয়ে তাদের কাছ থেকে আশীর্বাদ গ্রহণও এই দিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পালিত হয় গজ্যা পজ্যা বা নতুন বছরের সূচনা দিবস। এদিনও উৎসবের আমেজ অব্যাহত থাকে। আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি মানুষ একে অপরের সঙ্গে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

ফুলবিজুকে ঘিরে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ঐতিহ্যবাহী পিনন-হাদি ও ধুতি পরিহিত নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে নদীর তীর হয়ে ওঠে রঙিন ও প্রাণবন্ত। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষও এই উৎসবে অংশ নিয়ে সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

স্থানীয়রা জানান, ফুলবিজু শুধু একটি ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠান নয়, এটি তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে নতুন বছরকে বরণ করার এই আয়োজন তাদের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করে।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায় নিজ নিজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অনুযায়ী এই সময় বিভিন্ন উৎসব পালন করে থাকে। একই সঙ্গে বাঙালি সম্প্রদায়ও পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়, যা পাহাড়ে সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।