
জ্যোতি ত্রিপুরা : খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের দুর্গম ১৯৫ নং বামাগোমতি মৌজায় শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। নতুন বছর ২০২৬ উপলক্ষে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন তৈমুক স্পোর্টিং ক্লাব, ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানবিক কর্মসূচিতে সহযোগিতা ও অর্থায়ন করে দৈনিক সবুজ পাতার দেশ পত্রিকা পরিবার, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
আমতলী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাচাং নব রঞ্জন ত্রিপুরা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাচাং অনন্ত মোহন ত্রিপুরা (সিনিয়র অফিসার ক্যাশ, বাংলাদেশ সোনালী ব্যাংক পিএলসি)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাচাং জ্যোতি ত্রিপুরা (সভাপতি, পার্বত্য জেলা বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি), মাচাং নিলয় কান্তি ত্রিপুরা (ইউপি সদস্য, ৮ নং ওয়ার্ড), মাচাং স্বপন বিকাশ ত্রিপুরা, মাচাং বীরমোহন ত্রিপুরা, মাচাং অনিল বিহারী ত্রিপুরা, রিথী ত্রিপুরা, মাচাং বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, মাচাং সবুজ ত্রিপুরাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর স্বাগত বক্তব্য দেন মাচাং রাসেল ত্রিপুরা, সাধারণ সম্পাদক, নতুন বছর উদযাপন কমিটি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাচাং জ্যোতি ত্রিপুরা বলেন, “দীর্ঘদিন পর ১৯৫ নং বামাগোমতি মৌজায় এমন একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও শিক্ষাবান্ধব আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই এলাকার ইতিহাসে প্রথম ডিগ্রি (বিএ) অর্জনকারী ব্যক্তি আজকের প্রধান অতিথি অনন্ত মোহন ত্রিপুরা। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ সরবরাহে এগিয়ে আসায় দৈনিক সবুজ পাতার দেশ পত্রিকা পরিবারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাচাং অনন্ত মোহন ত্রিপুরা বলেন, তাদের শিক্ষাজীবনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জনে প্রতিদিন ১০–১৫ কিলোমিটার হেঁটে যেতে হতো। তখন কলেজ ছিল মাত্র একটি। কিন্তু বর্তমানে প্রত্যেক ওয়ার্ডে প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়নে উচ্চ বিদ্যালয় এবং উপজেলায় কলেজ রয়েছে—যা বর্তমান প্রজন্মের জন্য বড় সুযোগ। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
বক্তব্য শেষে অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাচাং বিনয় ত্রিপুরা।
স্থানীয়রা জানান, দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য দৈনিক সবুজ পাতার দেশ পত্রিকার এই সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক শিক্ষার্থীকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।
আপনার মতামত লিখুন :