
রামগড় সংবাদদাতা:
এলপিজি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডার এখন দিনে দিনে সাধারণ মানুষের জন্য সোনার হরিণের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের নির্ধারিত দাম বাস্তব জীবনে কার্যকর হচ্ছে না, আর রামগড়েও চলছে অরাজক পরিস্থিতি। শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত একদল অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের পকেটে হাত দিচ্ছে। অন্যদিকে, বাজার তদারকিতে প্রশাসনের নিরবতা জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
কাগজে যেমন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, মাঠ পর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করলেও, সাধারণ ভোক্তা সে সুবিধা উপভোগ করতে পারছেন না। বর্তমানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সিলিন্ডার প্রতি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, ডিলার ও কোম্পানি পর্যায় থেকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে না। ফলে গ্রাহকদের মন রক্ষার্থে বিক্রেতারা নিজস্ব খরচে গ্যাস কিনে বেশি দামে গ্রাহকের হাতে তুলে দিচ্ছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বড় বড় আমদানিকারক ও ডিলাররা যোগসাজশ করে বাজারে গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে। চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহের অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ ডিলারদের কাছ থেকে দাম বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ে সাধারণ ভোক্তা চরম চড়া দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও মফস্বল এলাকা এই শোষণ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ জানাচ্ছেন, বাজারে নিয়মিত তদারকির অভাব এবং খুচরা পর্যায়ে রসিদ ছাড়া লেনদেনের কারণে প্রমাণ রাখা সম্ভব হয় না। টিভির খবরে দাম কমানোর ঘোষণা আসে, কিন্তু দোকানে গেলে উল্টো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। গ্যাস না কিনলে রান্না করা সম্ভব নয়, তাই ভোক্তারা উচ্চমূল্যেও কিনতে বাধ্য।
এলপিজি এখন এমন একটি পণ্যে পরিণত হয়েছে, যা নিত্যপ্রয়োজনীয় হলেও ক্রমবর্ধমান মূল্য ও বাজারের অরাজকতার কারণে সাধারণ মানুষের জন্য সমস্যার কারণ। জীবনযাত্রার ব্যয় যখন আকাশছোঁয়া, তখন রান্নার গ্যাসের এই অস্থিতিশীলতা সাধারণ মানুষের জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগীরা আশা করছেন, প্রশাসন সিন্ডিকেট দমন করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে জরুরি হস্তক্ষেপ করবে।
আপনার মতামত লিখুন :