মহালছড়ি কলেজ মাঠে দুই শতাধিক ভিক্ষুর শান্তির ধর্মযাত্রা ও দানঅনুষ্ঠান


admin প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ন /
মহালছড়ি কলেজ মাঠে দুই শতাধিক ভিক্ষুর শান্তির ধর্মযাত্রা ও দানঅনুষ্ঠান

খাগড়াছড়ি, ছানোয়ার হোসেন: পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মের জাগরণের অগ্রদূত, পরম পূজনীয় নির্বাণগামী বনভান্তের সংঘের প্রধান রাজ বনবিহারে অধ্যক্ষ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির ভান্তের ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে রাঙ্গামাটির থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত পায়ে হেটে শান্তির ধর্মযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার মহালছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে দুই শতাধিক ভিক্ষু সংঘের পঞ্চশীল গ্রহণ, অষ্টপরিষ্কার দান, সংঘদান, বুদ্ধমূর্তিদান ও পিণ্ডদানসহ নানাবিধ দান-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে মহালছড়ির ধর্মপ্রাণ স্থানীয় বাসিন্দা ও দায়ক-দায়িকারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

ধর্মযাত্রাটি মঙ্গলবার ভোর ৫.৩০ মিনিটে শুরু হয়। ভদন্ত বিমলানন্দ মহাথের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে রাঙ্গামাটির থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত ৮০ কিমি পায়ে হেঁটে সম্পন্ন করা হয়। দ্বিতীয় দিনে মহালছড়ি কলেজ মাঠ থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে লেমুছড়ি ফুটবল মাঠ, নয়াপাড়া হেডম্যান কার্যালয় ও গামারীঢালা বনবিহারে বিরতি নেওয়া হয়। রাত্রি যাপন মৈত্রীপুর ভাবনা কেন্দ্র ইটছড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী দিনগুলোতে পেরাছড়া হাইস্কুল মাঠে পিণ্ডচারণ ও ভোজন গ্রহণের পর ধর্মযাত্রার সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।

ভগবান বুদ্ধের সময় থেকেই ধর্মযাত্রার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এটি মানুষের ভেতরের সদগুণ জাগ্রত করে, হিংসা, লোভ ও দ্বেষ থেকে মুক্তি দেয় এবং শান্তি, প্রেম ও মৈত্রীর পথে পরিচালিত করে। ধর্মযাত্রা কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আধ্যাত্মিক অভিযানের মাধ্যমে মানুষকে নিজের ভালো গুণাবলী চর্চা এবং আত্মদর্শনের সুযোগ দেয়।